Type to search

ওদের মনে ভয়!

Opinion

ওদের মনে ভয়!

Share

“ওদের মনে ভয়, ওরা ভাবে মানুষ একত্রিত হলেই ওদের মসনদ কেড়ে নিবে।
হোক সে শিশু (স্কুল ছাত্র), পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করতে হবে। কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলে, তাকে মামলার জালে ফেলে রিমান্ডে নিয়ে পিটিয়ে, নয়তো গোপনে তুলে নিয়ে মেরে নদীতে ফেলে দিতে হবে।
ওরা ভাবে না, এভাবে পুরো একটা প্রজন্মকে নিজেদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ভাবে না, এই দাগ থেকে যাবে।”

অনেকের প্রশ্ন…আমি কথা বলি না কেন?
এই প্রশ্নের অন্তত ৪০/৫০জনের স্ক্রিন সর্ট দিতে পারবো। ৮মাস হয়ে গেছে আমি কারও প্রশ্নেরই উত্তর দেইনি।

আজকে ৮/৯ মাস আগের একটা বিষয় তুলে ধরি…
সুইস সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আমার ব্যাক্তিগত সম্পর্কের কারণে তাকে বা তাদের সরকারকে একটা পরামর্শ দিয়েছিলাম।
রোহিঙ্গা শিরিরের জন্য সুইস সরকারের একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম প্রথম থেকেই রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করছে। রোহিঙ্গাদের জন্য সুইজারল্যান্ড থেকে ওষুধ আনা হত। কয়েকবার ওষুধ আনার পর একদিন পরিচিত কর্মকর্তাকে বললাম,”তোমরা ইউরোপ থেকে ওষুধ না এনে, সেই টাকায় বাংলাদেশ থেকে ওষুধ কিনে সেটা রোহিঙ্গাদের মাঝে বন্টন করতে পারো। তাতে তোমরা একই বাজেটে বহুগুন বেশি মানুষকে সেবা দিতে পারবে। কারণ,ইউরোপে ওষুধের দাম বাংলাদেশ থেকে ৮০/৯০গুন বেশি।”
আমার এই পরামর্শটা বাস্তবায়ন হতে মাত্র ৩/৪ দিন সময় লেগেছে। তারা এরপর সুইসজারল্যান্ড থেকে আর কোন ওষুধ কিনে আনেনি। সুইজারল্যান্ড থেকে টাকা আসতো এবং এখান থেকে ওষুধ কেনা হত। এখনো হয়।

এই পরামর্শ বাস্তবায়ন হওয়াতে আমার ভাললাগা হচ্ছে, আমি সুইস কারেন্সি সরাসরি আমাদের অর্থনীতিতে যোগ করাতে পেরেছি। আর বেশী সংখ্যক মানুষের কাছে সেবা পৌছানোর উপলক্ষ হতে পেরেছি।

অবশ্যই ভাববার বিষয়, তাদের মত একটা ধনী দেশের কতৃপক্ষের আমার মত সামান্য একজনের কথায় তাদের একটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা কিভাবে সম্ভব?
সম্ভব হয়েছে হয়তো পরামর্শের যৌক্তিকতার কারণে। যখন তাদের মনে হয়েছে, পরামর্শ সঠিক তখন তারা সেটা সাথে সাথে গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করেছে।

এবার, আমাদের কথায় আসি। আমরা হলে কি করতাম?
আমরা হলে আগে মন্ত্রী এম্পি, আম্লা-কামলার স্বার্থ মাথায় রেখে তবেই ফাইল চালাচালি করতাম। পকেট ভরবে না খালি হবে সেই বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হত। মাসের পর মাস, দিনের পর দিন কেটে যেত।

আমাদের দেশে কোনদিন দেখিনি নিজ রাজনৈতিক দলের স্বার্থের কথা আগে বিবেচনা না করে কিংবা দলীয় বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শ ব্যতীত কোন বিষয় আমলে নিতে। দেশের ৯০ শতাংশ মানুষও যদি কোন বিষয়ে একমত থাকে কিন্তু সেটা যদি মসনদে থাকা রাজা-রানীদের স্বার্থের বাহিরে চলে যায়, সেটা আমলে নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এখানে ৯০ শতাংশ মানুষকেও উপেক্ষা করা হয়।

এইদেশে আমাদের মত সাধারণ মানুষের কথা কোনদিন নীতি নির্ধারকদের কানে কখনোই পৌছায় না। যেখানে শোনার কেউ নেই, সেখানে বলে কি লাভ? আবার এখানে আপনি যখন ভাল কিছু বলার চেষ্টা করবেন আর যদি সেটা কখনও রাজা-রানীদের স্বার্থের বাহিরে চলে যায়, তাহলে রাজা-রানীদের লাঠিয়াল বাহিনী আপনার বিরুদ্ধে রে…রে… করে ছুটে আসবে। তাদের সৈনিকরা ছুটে আসবে তলোয়ার আর বল্লম হাতে। আপনি বিদ্ধ হবেন।

শেষ কথা…
“বোবা বধিরের কান্নার শব্দ কি কেউ শুনেছেন কখনও?
তাঁরা সভ্য ভাবে(!) কাঁদতেও পারে না।
তাদের মুখ থেকে শুধু গোঙ্গানির শব্দ শোনা যায়।
খুব কষ্ট সেই কান্নায়! বুঝিয়ে বলতে পারে না।
হাহাকার শুধু হাহাকার করে, করে বুক ফাটিয়ে চিৎকার।
চোখ,কান, মুখ চেপে ধরে বুকের উপর পাথর বসিয়ে দেওয়া এই সময়ে,
আসুন, বোবা-বধিরের মত চিৎকার করি, বুকফাটা চিৎকার।
দেখি আমাদের গোঙানির শব্দ ওদের বিবেকে বিদ্ধ হয় কিনা।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *