Type to search

Personal Opinion

গুম হওয়ারাও ফিরে আসুক

Share

আমাদের কারই একদিন এই শক্তি থাকবে না, যেটা নিয়ে আজ আমরা বড়াই করছি। ১৯৯০ সালে আমার বয়স ছিল মাত্র ১০। এরশাদ সাহেবের তখন পূর্ণ যৌবন। যৌবনের সেই এরশাদ সাহেব আজ বৃদ্ধ। চেহারায় আর সেই জৌলুস নেই। শরিরেও নেই সেই বল। কিন্তু ১৯৯০ সালের আগের এরশাদকে একবার ভাবুনতো! গেল মাত্র ২৮/২৯ বছর! এই এরশাদেরও একদিন ছিল পুরো সেনাবাহিনী, পুলিশ, আর পুরো রাষ্ট্রক্ষমতা। আর আজ??

ঠিক এমনিভাবে আজ থেকে ২৮/২৯ বছর পরের কথা ভাবুন! আজকের আমার বয়স তখন হবে ৭০ কোঠায়। যদি আমি বেঁচে না থাকি, আমার বন্ধুরা হয়তো অনেকে বেঁচে থাকবেন। আজকের স্কুল-কলেজের শিশুগুলো আগামী ২৮/২৯ বছর পরে থাকবে ঠিক আমারই এই বয়সে। তখন হয়তো তারাও আমারই মত করে আজকে আমি যা বলতে চাইছি সেই কথাগুলোই অন্য কাউকে বলবে। বলবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। বলবে, তারাও দেখেছেন, ক্ষমতায় টীকে থাকতে ক্ষমতাসীনরা কি না করেছিলেন।

আলহামদুলিল্লাহ্‌ – ওবায়দুল কাদের সাহেব আমাদের মাঝে ফিরে আসছেন। তিনি ফিরে আসবেন ঠিকই কিন্তু তার সাথে আসবে একগাদা ওষুধ। প্রেসক্রিপশনে লিখা থাকবে, চলবে…
একটি ইমারজেন্সি স্প্রে সবসময় সাথে রাখতে বলা হবে। বলা হবে, যখনই বুকে চাপ দিয়ে ধরবে (শ্বাস নিতে কষ্ট হবে, দম বন্ধ হয়ে আসবে) তখনই এই স্প্রে’র সাহায্য নিতে। সেই স্প্রে তাকে শ্বাস নিতে সাহায্য করবে।

ওবায়দুল কাদের সৌভাগ্যবান। তিনি ফিরে আসছেন। এই সৌভাগ্য সবার হয় না। তিনি জীবন আর মৃত্যুর মাঝখান থেকে ফিরে আসছেন। এই ফিরে আসা তাঁর পরিবারের জন্য যে কতটা প্রশান্তির সেটা ওবায়দুল কাদের সাহেব নিজেও জানেন না। আমার আব্বা যখন স্টোক করেছিলেন, তখন প্রতিমুহূর্তে ভয় ছিল এই বুঝি আব্বা চলে যাচ্ছেন! শরীরে মনে কোন শক্তি পাচ্ছিলাম না। দিন-রাত হাসপাতালে এতিমের মত পরে ছিলাম। আর কেমন যেন এক শুন্যতা ভর করে ছিল মনের ভিতর। আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে আমার আব্বা এখনও বেঁচে আছেন। এ যে কি শান্তি, এ যেন এক বটবৃক্ষ।

তবে আজ খুব মনে পড়ছে সেই সকল পরিবারগুলোর কথা, মনে পড়ছে সেই শিশুটির কথা, যে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, “আমাকেও গুম করে দিন। তাহলে আমি আমার বাবাকে দেখতে পাবো।”

ওবায়দুল কাদের সাহেব ফিরে আসছেন। আশাকরি তিনি এতটুকু বুঝতে বা বুঝাতে সক্ষম হবেন যেন, এইদেশে আর কোনদিন রাজনৈতিক কারণে কিংবা অন্য যেকোন কারণে মানুষ ‘গুম’ আর ‘খুন’ না-হন।

গুম হওয়ারাও ফিরে আসুক এবং গুম হওয়া পরিবারগুলোও যেন ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের মত প্রিয়জন ফিরে আসার আনন্দে ভাসতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *